বাংলাদেশ হবে আন্তর্জাতিক এডুকেশন হাব: যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

বাংলাদেশকে বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক শিক্ষা কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার প্রতি আকৃষ্ট করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

শনিবার, ১৮ জুলাই নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন এবং নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬।

## বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হবে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একসময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করতে আসতেন। বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বিশ্বমানের শিক্ষা, আধুনিক গবেষণার সুযোগ এবং উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বিদেশি শিক্ষার্থীরাও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী হবেন বলে মনে করেন তিনি।

## দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে শিক্ষার বিকল্প নেই

শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে তরুণদের দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই জনগোষ্ঠীকে প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ এবং বিশ্বমানের শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে বাংলাদেশকে জ্ঞানভিত্তিক ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এ লক্ষ্যে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিস্তার প্রয়োজন। কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তরুণেরা শুধু সনদ অর্জন করবেন না, বরং নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

## স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয় চালু

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট এলাকার অর্থনীতি ও সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয় চালুর ওপর গুরুত্ব দেন শিক্ষামন্ত্রী।

নওগাঁ অঞ্চলে আমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ব্যাপক উৎপাদন হওয়ায় নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবিষ্যতে কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং ফুড টেকনোলজির মতো বিষয় চালু করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

## শিক্ষক নিয়োগে মেধা ও স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি

শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। মেধা, যোগ্যতা এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।

একই সঙ্গে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, পরীক্ষা পদ্ধতির আধুনিকায়ন, গবেষণার বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন শিক্ষামন্ত্রী।

## শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্য

সরকার পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের—জিডিপির—৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর মতে, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ শিক্ষক, গবেষণার সুযোগ এবং আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষা মানচিত্রে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

## বাস্তবায়নই হবে বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। তবে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য শুধু নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না। শিক্ষার মান নিশ্চিত করা, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত শিক্ষক নিয়োগ, আধুনিক পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা দেশেই বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগমনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষা, গবেষণা, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।