
রেফারিং নিয়ে টুর্নামেন্টজুড়ে নানা বিতর্কের মুখে পড়েও ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। তবে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। রোববার রাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে স্পেনের সংগঠিত ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের কাছে পরাস্ত হয়ে রানার্সআপ হয় ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে ঘিরে রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। গ্রুপ পর্ব থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত একাধিক ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হয়। ফাইনালেও স্পেনের তরুণ উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। অনেক ফুটবল বিশ্লেষক ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেন।
টুর্নামেন্ট চলাকালে আর্জেন্টিনার প্রতি ফিফা অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে—এমন অভিযোগও আলোচনায় আসে। প্রথমে মিশর রেফারিং নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায় ফিফার কাছে। পরে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই একই ধরনের অভিযোগ দায়ের করে আলজেরিয়া।
বিতর্কের অন্যতম বড় ঘটনা ঘটে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে। আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দির ওপর পিছন থেকে একটি কঠোর ট্যাকেল করেন লিওনেল মেসি। রিপ্লেতে দেখা যায়, মেসির বুটের স্পাইক মান্দির হাঁটুর পেছনের অংশে আঘাত করে। এমন ট্যাকেলে সাধারণত সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর নজির থাকলেও, ম্যাচের রেফারি মেসিকে কোনো কার্ডই দেখাননি।
ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আইসা মান্দি। তার দাবি, মেসি বিশ্ব ফুটবলের বড় তারকা হওয়ায় রেফারি লাল কার্ড দেখানোর সাহস পাননি। পরে আলজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশনও ফিফার রেফারিং কমিশনের কাছে পাঠানো অভিযোগপত্রে ঘটনাটি উল্লেখ করে।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে এসব ঘটনা নিয়ে সাবেক ফুটবলার, বিশ্লেষক ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত সব বিতর্ক ছাপিয়ে শিরোপা জিতে নেয় স্পেন। আর ফাইনালে হার দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার।





