
লন্ডনে ইমিগ্রেশন অভিযানে হোম অফিসকে সহযোগিতা বন্ধের পরিকল্পনা
লন্ডন, ১৯ জুলাই ২০২৬: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা হোম অফিসের ইমিগ্রেশন অভিযানে সহযোগিতা বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে লন্ডনের লুইশাম কাউন্সিল। কাউন্সিলটির প্রস্তাব কার্যকর হলে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত বা আটকের উদ্দেশ্যে পরিচালিত অভিযানে কাউন্সিলের কর্মকর্তা, তথ্য ও বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
কাউন্সিলের তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের একটি ই-মেইলে হোম অফিসের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট টিম লুইশাম কাউন্সিলের খাদ্যমান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যৌথ অভিযান পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য আদান-প্রদানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল।
এরপর কাউন্সিলের তথ্য, ব্যয় ব্যবস্থা এবং তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো ইমিগ্রেশন অভিযানে কোনোভাবে ব্যবহার হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবে কী রয়েছে?
লুইশাম কাউন্সিলে উত্থাপিত প্রস্তাবে হোম অফিসের সঙ্গে তথ্য বিনিময় এবং যৌথ অভিযানে সহযোগিতার বর্তমান ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে রেস্তোরাঁ, টেকওয়ে, নখের সৌন্দর্যচর্চা কেন্দ্র, নাপিতের দোকান, গাড়ি ধোয়ার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালিত ইমিগ্রেশন অভিযানে স্থানীয় কাউন্সিলের তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
কাউন্সিলের সঙ্গে কাজ করা কোনো দাতব্য বা তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে তথ্য দিয়ে থাকলে, তাদের সঙ্গে থাকা চুক্তিও পর্যালোচনা করা হতে পারে।
‘অভয়ারণ্য এলাকা’ তৈরির উদ্যোগ
লুইশাম ২০২১ সাল থেকে একটি ‘Sanctuary Borough’ বা অভয়ারণ্য কাউন্সিল হিসেবে পরিচিত। এর লক্ষ্য হচ্ছে অভিবাসী, শরণার্থী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করা।
গ্রিন পার্টির নেতৃত্বাধীন কাউন্সিলগুলো লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসীদের জন্য একটি নিরাপদ বলয় তৈরির পরিকল্পনা করছে। লুইশামের উদ্যোগটি সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনা
বর্তমানে লুইশাম কাউন্সিলের ৫৪টি আসনের মধ্যে ৪০টি গ্রিন পার্টির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই কাউন্সিল সভায় প্রস্তাবটি অনুমোদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে এটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
হোম অফিসের বক্তব্য
হোম অফিস জানিয়েছে, তাদের ইমিগ্রেশন অভিযানগুলো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। অবৈধ কর্মসংস্থান ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ বন্ধ করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য বিনিময় জরুরি বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে, সমালোচকদের মতে, এ ধরনের অভিযানের কারণে বৈধ কাগজপত্র না থাকা ব্যক্তিদের পাশাপাশি পুরো অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে।
লন্ডনের অভিবাসীদের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে লুইশাম এলাকায় হোম অফিসের অভিযান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে—এমনটি নয়। কারণ যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগের ক্ষমতা হোম অফিসের হাতে থাকবে।
তবে কাউন্সিলের কর্মকর্তা, স্থানীয় তথ্য এবং কাউন্সিল-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের সহায়তা না পেলে কিছু অভিযান পরিচালনা করা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে অভিবাসীরা স্থানীয় স্বাস্থ্য, আবাসন এবং অন্যান্য সেবা নিতে আগের তুলনায় বেশি নিরাপদ বোধ করতে পারেন—এটি প্রস্তাবটির সমর্থকদের প্রত্যাশা।
লন্ডনে ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক
লুইশাম কাউন্সিলের এই উদ্যোগের মাধ্যমে লন্ডনে জাতীয় ইমিগ্রেশন নীতি এবং স্থানীয় কাউন্সিলের দায়িত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে সরকার অবৈধ অভিবাসন ও অননুমোদিত কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথা বলছে। অন্যদিকে কিছু স্থানীয় কাউন্সিল মনে করছে, তাদের তথ্য বা সেবার কারণে দুর্বল অভিবাসীরা ভয় বা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন।
লুইশামের প্রস্তাব অনুমোদিত হলে লন্ডনের আরও কয়েকটি গ্রিন পার্টি পরিচালিত কাউন্সিল একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ফলে যুক্তরাজ্য সরকারের ইমিগ্রেশন নীতি বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধ আরও বাড়তে পারে।







